রাষ্ট্রায়ত্ত ও বহুজাতিক কোম্পানির তালিকাভুক্তি

উদ্যোগ গ্রহণে প্রধান উপদেষ্টাকে ডিবিএর অনুরোধ

পুঁজিবাজারে রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি ও বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে তালিকাভুক্তির অনুরোধ জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে চিঠি দিয়েছে পুঁজিবাজারের স্টক ব্রোকারদের সংগঠন ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ)।

পুঁজিবাজারে রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি ও বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে তালিকাভুক্তির অনুরোধ জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে চিঠি দিয়েছে পুঁজিবাজারের স্টক ব্রোকারদের সংগঠন ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ)। গতকাল সংগঠনটির পক্ষ থেকে সভাপতি সাইফুল ইসলাম এ চিঠি দিয়েছেন বলে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

প্রধান উপদেষ্টা বরাবর পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, ১৫ বছর ধরে বাংলাদেশের পুঁজিবাজার চরম অনিয়ম, অপশাসন ও অস্থিরতার মধ্য দিয়ে অতিক্রম করেছে। নানা অনিয়মের কারণে অসংখ্য প্রতিষ্ঠান প্রায় অকার্যকর ও ব্যর্থ প্রতিষ্ঠানে রূপ নিয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে প্রকৃত রিটার্ন এবং মূলধন হ্রাস পেয়ে বাজার প্রকৃত অর্থে প্রায় ৪০ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়, বাংলাদেশে বেশকিছু বহুজাতিক কোম্পানি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে। কোম্পানিগুলো দেশের অবকাঠামোগত, আর্থিক ও মানবসম্পদকে একত্রিত করছে। এসব কোম্পানিকে পুঁজিবাজারে সরাসরি তালিকাভুক্তির মাধ্যমে অংশীদারত্ব নিশ্চিত করতে প্রধান উপদেষ্টার প্রতি অনুরোধ জানায় সংগঠনটি।

চিঠিতে আরো বলা হয়, অতীতে বিভিন্ন প্রতিকূল ঘটনা এবং স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক কারণে বাজার ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। বিশেষ করে, ১৯৯৬ ও ২০১০ সালের স্ক্যামগুলো বাজারের আর্থিক সংকট হিসেবে দাঁড়িয়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের আস্থা এবং বাজারের সামগ্রিক অখণ্ডতার স্থায়ী ক্ষতি করেছে। এ সময়ে অসংখ্য কোম্পানির শেয়ারের মূল্য কৃত্রিমভাবে বৃদ্ধির ফলে বিনিয়োগকারীদের মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে।

২০২০ সালে কভিড-১৯-পরবর্তী প্রায় ২০ মাস ধরে শেয়ারের দামের ওপর ফ্লোর প্রাইস আরোপের ফলে বাজারের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। এতে আন্তর্জাতিক ফান্ড ম্যানেজাররা বাংলাদেশ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে এবং স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের সঞ্চয় ও বিনিয়োগের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো মানহীন আইপিও তালিকাভুক্তির মাধ্যমে বাজার থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট। ফলে বাজারে স্থায়ী তারল্য সংকট ও আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে।

সংগঠন থেকে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, এ পরিস্থিতিতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা, পরিচালনাকারী সংস্থা, তালিকাভুক্ত কোম্পানি, বাজার মধ্যস্থতাকারী এবং আর্থিক নিরীক্ষক, রেটিং এজেন্সিসহ অন্য স্টেকহোল্ডারদের মাঝে সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা ঘাটতির কারণে আস্থার মারাত্মক সংকট দেখা দিয়েছে। এ সংকট দূর করার পাশাপাশি বাজারকে সমৃদ্ধ করতে নতুন নতুন পণ্য ও কোম্পানি তালিকাভুক্ত করতে হবে। তাতে বাজারে মানের স্টকগুলোর ক্রমবর্ধমান সরবরাহ থাকবে, যা চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করতে সহায়তা করবে। এছাড়া এটি বিনিয়োগকারীদের বাজারে ফিরিয়ে আনবে এবং বাজারে তারল্য সমস্যার সমাধান করবে।

আরও